নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬ | 11 বার পঠিত | প্রিন্ট
নিজস্ব প্রতিবেদক : মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ বাস্তবায়নকে কেন্দ্র করে দেশের পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। খাতটির সঙ্গে যুক্ত বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, এই বিধিমালা কার্যকর হলে কেবল ক্লোজড-এন্ড (মেয়াদি) মিউচুয়াল ফান্ড খাতই নয়, বরং সামগ্রিক পুঁজিবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই আইনটি পুনর্বিবেচনায় অর্থমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।
শনিবার (২০ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরামের (সিএমজেএফ) কার্যালয়ে বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত এক সেমিনারে এ দাবি জানানো হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী সংগঠনের প্রতিনিধি, পুঁজিবাজার বিশ্লেষক এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মিউচুয়াল ফান্ড বিনিয়োগকারী ঐক্যফ্রন্টের প্রধান ম. জহুরুল হক। তিনি বলেন, সম্প্রতি বিএসইসি চেয়ারম্যান আশ্বাস দিলেও বাস্তবে মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ড বন্ধ ও রূপান্তরের উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, কমিশনের একটি অংশ বাজারসংশ্লিষ্টদের আপত্তি ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে আমলে না নিয়ে এই বিধিমালা কার্যকর করতে তৎপর রয়েছে।
জহুরুল হক আরও জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে কয়েকজন বিনিয়োগকারী বিদ্যমান ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের অবসায়ন ও রূপান্তর প্রক্রিয়া স্থগিতের আবেদন করলে আদালত সাময়িক স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে বিএসইসির আবেদনের প্রেক্ষিতে চেম্বার আদালত সেই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নেয়, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
সেমিনারে বক্তারা বিধিমালার ৬২(২) ধারা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। এই ধারায় বাজারমূল্য বা লেনদেনমূল্যের সঙ্গে প্রকৃত সম্পদমূল্যের তুলনা করে মেয়াদি ফান্ড অবসায়ন বা ওপেন-এন্ড ফান্ডে রূপান্তরের বিধান রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে কোথাও প্রচলিত নয় বলেই তাদের দাবি। তাঁদের মতে, বাজারমূল্য সম্পদ ব্যবস্থাপকের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়, তাই ফান্ডের কার্যকারিতা মূল্যায়নে ইউনিটপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) ও ফেস ভ্যালুকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া উচিত।
জহুরুল হক সতর্ক করে বলেন, মেয়াদি মিউচুয়াল ফান্ডগুলোকে জোরপূর্বক অবসায়ন বা ওপেন-এন্ডে রূপান্তর করা হলে বাজারে বিপুল পরিমাণ শেয়ার বিক্রির চাপ তৈরি হবে। বর্তমানে দেশের ক্লোজড-এন্ড ফান্ডগুলোর অধীনে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার তালিকাভুক্ত শেয়ারে বিনিয়োগ রয়েছে, যা পুঁজিবাজারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে।
বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এস এম ইকবাল হোসেন আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ফান্ডের সম্পদ বিক্রি করে বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দিতে হলে কয়েক হাজার কোটি টাকার শেয়ার বাজারে ছেড়ে দিতে হবে। এতে শুধু সূচকের পতনই হবে না, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়বে। তিনি ধারণা করেন, আতঙ্কজনিত বিক্রি শুরু হলে মোট বিক্রির চাপ ২০ হাজার কোটি টাকাও ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ ও মার্জিন বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করা জরুরি বলে মত দেন তিনি।
সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক গনেশ রায় অভিযোগ করেন, মিউচুয়াল ফান্ড ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি রেইস অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের উদাহরণ টেনে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের পরিচালিত ফান্ডের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার বেশি লভ্যাংশ বিতরণ করেছে, যা এই খাতের সক্ষমতার প্রমাণ।
বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, দীর্ঘদিন ধরে ক্লোজড-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ড বাজারে একটি স্থিতিশীল বিনিয়োগ কাঠামো হিসেবে কাজ করে আসছে। তাঁরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় বিএসইসির সাম্প্রতিক নির্দেশনা বাতিল এবং মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
Posted ৭:৫৮ অপরাহ্ণ | শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
sharebazar24 | sajed khan
.
.